বামেদের ডাকা বনধে সাইকেল চালিয়ে দপ্তরে হাজির বাম মহকুমা পরিষদের কর্মীরা
দি নিউজ লায়ন ; বামেদের ডাকা বনধে সচল শিলিগুড়ি পুরনিগম। সাইকেল চালিয়ে দপ্তরে হাজির বাম মহকুমা পরিষদের কর্মীরা। শিলিগুড়ি বামেদের দ্বীপ সাম্রাজ্য। শিলিগুড়ি পুরনিগম ও মহকুমা দুইই বামেদের দখলে।
আর সেই বাম দূর্গেই বনধের চিত্র ছিল একেবারে সচল। সকাল থেকে অশোক ভট্টাচায্য, জীবেশ সরকার সহ বাম নেতৃত্বরা রাস্তায় নামলেও বনধ একেবারে ফ্লপশো। অশোক দুর্গ শিলিগুড়ি পুরনিগমে বৃহস্পতিবার কর্মীদের হাজিরা ছিল ৮০%। কর্মব্যস্ত দিনে গড়হাজির থাকা কর্মীদের করা হবে শোকজ বলে জানিয়ে দেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার সোনম ওয়াংদি ভুটিয়া। তিনি বলেন ৮০%কর্মীই এদিন দপ্তরের নির্দিষ্ট সময় মতো এসেছিল।
অধিকাংশেরই উপস্থিতি ছিল। বাকিদের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গড় হাজির থাকা কর্মীদের শোকজ চিঠি পাঠিয়ে জানাতে চাওয়া হবে কেন তারা আসেননি।তাদের অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে পুরোনিগমের শীর্ষ আধিকারিককে। অন্যদিকে মহকুমার ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় ডিউটি রোস্টারের চেয়ে অধিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের দায়িত্ব প্রাপ্ত আধিকারিক জানান করোনার সময়তে মোট ৫০%কর্মীদের নিয়ে দৈনিক রোস্টার মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। তাদের ৫০%ই হাজির হয়েছে। পাশাপাশি বনধকে বিরোধিতা করে রোস্টার ছাড়াও বেশ কিছু কর্মীরা হাজির ছিলেন এদিন। ভারত বাংলা সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম তারবাধা, শিলিগুড়ি থেকে যার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার, ফাঁসীদেওয়া ব্লকের অন্তর্গত।
সেখান থেকে ৫০কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে এদিন দপ্তরে আসেন শিলিগুড়ি মহকুমার জেনারেল বিভাগের কর্মী বরেন্দ্র রায়। বয়স প্রায় ৫৫। সীমান্তবর্তি গ্রাম থেকে এদিন সকাল ৭টায় রওয়ানা দিয়ে দপ্তরিয় সময়ে এসে পৌঁছান তিনি। আবার জেনারেল বিভাগের মহিলা কর্মী মুনমুন দেব বাগডোগড়া থেকে বনধের দিনে হাতিঘিসার সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাইকে এসে পৌঁছান দপ্তরে।
তিনি বলেন রাস্তায় সরকারি বাস,গাড়ি থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় বাস চালক ও গনপরিবহনকে দাঁড় করিয়ে বাম কর্মী সমর্থকেরা হেনস্থা করে সে কারণে যাতে দপ্তরে সময় মতো পৌঁছতে সমস্যা না হয় তাই অধিকাংশই নিজস্ব পরিবহনে এসেছে।
সরকারি বাসেও এসেছে জেনারেল, একাউন্টস বিভাগের কর্মীরা। অন্যদিকে এদিন শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় যানচলাচল ছিল স্বাভাবিক। দু একটি বাজার ছাড়া শহর ছিল স্বাভাবিক ছন্দেই। বামেরা বলপূর্বক বেশ কিছু গনপরিবহন ও সরকারি বাসকে দলীয় ঝান্ডা দেখিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

Post a Comment